বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
বাসসের নেতৃত্বে কামাল উদ্দিন সবুজ: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: নেপথ্যে খামেনির সম্মতি ও ট্রাম্পের ঘোষণা ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা: নেপথ্যে পাকিস্তান ও ১০ দফার প্রস্তাব আজ রাতেই একটি সভ্যতার মৃত্যু ঘটবে: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি বনপাড়া পৌর শহরের কৃতি সন্তান মাহমুদুল হাসান মেয়র প্রার্থী দোহারে গৃহবধূ মলি হত্যা সাবেক স্বামী র্যাকবের হাতে গ্রেপ্তার আওয়ামী আমলের প্রভাব খাটানো ইউএনও আলমগীর এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব! বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের বড় চালান

সারাদেশে ১ মে থেকে ডিম-মুরগির খামার বন্ধের ঘোষণা

সারাদেশে ১ মে থেকে ডিম-মুরগির খামার বন্ধের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: আগামী বৃহস্পতিবার (১ মে) থেকে সারাদেশে ডিম ও মুরগির খামার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বিপিএ-এর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার অভিযোগ করেন, পোল্ট্রি শিল্প সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ঈদের মৌসুমেও ভয়াবহ লোকসান করেছে। দুই মাসে ডিম ও মুরগির খাতে লোকসান দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা। রমজান ও ঈদ উপলক্ষে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন ২০ লাখ কেজি মুরগি উৎপাদন করেছেন। প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা লোকসানে, এক মাসে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, এই মৌসুমে প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন করে তিন কোটি ডিম। প্রতি ডিমে দুই টাকা করে লোকসানে, দুই মাসে ডিমে লোকসান হয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা।

এমন অবস্থায় সারা দেশে প্রান্তিক ডিম ও মুরগির খামারিদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে অথচ সরকার নিশ্চুপ ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিপিএ-এর সভাপতি। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীরবতায় কিছু কর্পোরেট কোম্পানি পুরো পোল্ট্রি শিল্প দখলের ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলেও অভিযোগ তার।

বিবৃতিতে বলা হয়, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের পাশাপাশি ডিম ও মুরগির বাজারও নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রান্তিক খামারিদের।

এর বিরুদ্ধে আগামী ১ মে থেকে সারা দেশে প্রান্তিক খামারিরা খামার বন্ধ রাখবেন বলে বিবৃতিতে ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো:

১) পোল্ট্রি পণ্যের জন্য জাতীয় মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নির্ধারণ কমিটি গঠন। ২) ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন। ৩) পোল্ট্রি বাজার রেগুলেটরি অথরিটি গঠন। ৪) ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন প্যাকেজ। ৫) খামারিদের রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড দেয়া। ৬) কোম্পানিকে শুধু কাঁচামাল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখা। ৭) কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও কোম্পানির খামার নিষিদ্ধ করা। ৮) কেজিভিত্তিক ডিম ও মুরগি বিক্রির নীতিমালা প্রণয়ন। ৯) ডিম-মুরগির রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি।১০) পূর্ণাঙ্গ ‘পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন।

বিবৃতিতে এসব দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com